আনন্দ বেদনার মহামিলন

খালেদুন রাতুল

ঋতু পরিবর্তনের আবহে প্রকৃতির নতুনধারার মতো নতুনত্ব শিক্ষার্থীদের সাজসজ্জাতেও। ছিল কড়া মেকাপ আর বাহারী সাজের ঢঙ। চেনা মুখগুলোও যেন অচেনা। চলে ফ্যাশনেবল সাজে বিদায়ী ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী হবার অলিখিত প্রতিযোগিতা। পিছিয়ে ছিল না ৪৩ এর নবীনরাও। ঘন্টা খানেকের হই হুল্লোড় আর ঠেলাঠেলি শেষে গ্রহণযোগ্য একটা ছবি শেষ পর্যন্ত ক্যাপচার করা। বিদায়ী শিক্ষার্থী মুনতাসির মাহমুদ অমিয়ের অম্ল-মধুর মন্তব্য, সকল লম্প ঝম্প শেষে বাচ্চারা একটু স্বস্থির হয়ে দাঁড়ালো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের বিদায় ও নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে। বিদায়ী শিক্ষার্থী রাবেয়া বশরী রিমি ও সুবর্ণার নষ্টালজিক স্মৃতিচারণ আর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সহপাঠী রফিকুল ইসলাম রোটনকে স্মরণ করে আল আমিন সেতুর অশ্রুজল বক্তব্য সবাইকে আবেগাপ্লুত করে। নবীনরাও মেলে ধরে স্বপ্নের ফানুস। অধিনা বিনতে সিদ্দিক ও মাহফুজুর রহমান লিঠুর নান্দনিক উপস্থাপনাও ছিল বেশ উপভোগ্য। পুরো প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপনায় ছিল ৪০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধুম-ধাড়াক্কা গানের তালে জাহিদ-বাবলি, জুবায়ের টিপু-রিজভী, তুর্না-কেফায়েত, নাঈম-প্রজ্ঞা, মেহদী-অপ্সরা জুটির নাচ, পিয়ালের তবলার তালে আশিকি হক দোলা ও তানজিয়া কবিরের সুরেলা কণ্ঠের গান, ইমন-সোনিয়া-হাফিজ-ফাহিমা ও সৈয়দ রিয়াজের ফ্যাশন শো ছড়ায় গ্লামারের দ্যুতি। মইনুল হকের কমেডি সংবাদ ফাঁস করে দেয় উদীয়মান প্রেমিক প্রেমিকার গোপন অভিসার বৃত্তান্ত। মাসুদা মিষ্টির ও তৃষার একক নৃত্য, জুবায়ের টিপুর রচনা ও নির্দেশনায় আমরা আমরাই তো নাটকে হারিয়ে যায় সবাই। এছাড়া তাত্ক্ষণিকভাবে সেরা নাচিয়ে হিসেবে রাজা-রানী মুকুট পরেন বিদায়ী রাশেদ ও দীপ্তি। ম্যাডামদের পিচ্চি রূপকথার নৃত্য, মিয়েল আর মহিমার কচিকণ্ঠের গান সবাইকে মুগ্ধ করে।

Read on Newspaper: http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/campus/2014/11/12/14142.html

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *