বন্ধু আড্ডা গান

bondhu adda gan

শরিফুল ইসলাম নাসের

পড়ন্ত বিকেল। হিমহিম ঠান্ডা অনুভূতি। তেজ কমে গেছে সূর্যটারও, হেলে পড়েছে পশ্চিমাকাশে। সোনালী আলোর খেলা চারপাশে। উড়ে চলেছে প্রজাপতির দল। লাল পদ্মের দিঘীতে চলছে অতিথি পাখির ডুবসাঁতার। পিচডালা পথ ধরে হেটে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ। দুপাশে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে সবুজ শ্যামল গাছগুলো। হেটে চলা তরুণদের সাথে কথা বলতেই জানা গেল তারা সবাই অনার্স শেষ পর্বের। তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে, চলছে যুক্তি, তর্ক-বিতর্ক। তাদের আলোচনাতেই বুঝা গেল তারা পুরো বিশ্ব এবং নিজ দেশ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাদের আড্ডার মধ্যেই ফুটে উঠছিল একেকজনের চিন্তা, ভাবনা এবং রঙিন স্বপ্নের কথাগুলো।

তাদের মধ্যে আতিকুর রহমানের কণ্ঠে ঝড়ল পরীক্ষার আক্ষেপ দেশের সামগ্রিক অবস্থা ভাল না থাকায় আমাদের পরীক্ষা হচ্ছে না। অনার্সটাও গেল পিছিয়ে। রিয়াজ, নিপা, শারমিন বলছিল প্রায় একই কথা। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারের আমলা হতে চাই, দেশের তরে কাজ করে যেতে চাই। সেজন্য প্রস্তুতি চলছে খুব জোরেসোরে। তবে এক্ষেত্রে ভিন্ন অধিনা বিনতে সিদ্দিক। ‘একজন সংবাদ উপস্থাপিকা হতে চাই, সেজন্য একটি কোর্সও সম্পন্ন করেছি’ বলে জানালো সে।

বন্ধুমহলে ‘লগন কবি’ হিসেবে খ্যাত মাহবুব বলতে শুরু করল এবার- সত্যিকথা বলতে কি, আমার দ্বারা চাকরী-টাকরী হবে না। তাই ভেবেছি লেখালেখির দিকে মনোযোগ দেব। লেখালেখি আমায় খুব টানে। পাশাপাশি শিক্ষকতা করব। তার কিছু কবিতা, ছোট গল্প জাতীয় বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানায় কবি বনে যাওয়া এই ছেলেটি।

এবার গাম্ভীর্যের সুরে কথা বলতে লাগল মামুনুর রশীদ সৈকত। সে বলল, ভবিষ্যত নিয়ে এখনো ভাবা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যাই করি, গণমাধ্যমের সাথে জড়িত থাকব। সত্য প্রকাশ করে দেশের তরে কাজ করব। সে বর্তমানে একটি জাতীয় দৈনিকের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

সবশেষে হাসিমাখা কণ্ঠে কথা বলে উঠল কামাল হোসাইন, তার কণ্ঠে ভেসে এল বাংলার মানুষের তরে কিছু করার। তার কণ্ঠে কণ্ঠ মেলাল আধুনিক হুজুর তহিদুল। ‘নিজে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব যেখানে বিভিন্ন মানুষের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। তখন মানুষের তরে কিছু করতে পেরেছি এই ভেবে খুবই ভাল লাগবে।’

এভাবেই বন্ধুদের আড্ডার ফাঁকে স্বপ্নের জাল বুনে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একেকটি ছাত্র-ছাত্রী। স্বপ্ন দেখে দেশের তরে কিছু করার, দেশকে এগিয়ে নেয়ার। যেন বন্ধু, আড্ডা আর স্বপ্ন একটি গাছের তিনটি ফল।

 

Read on newspaper: http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMThfMTNfNF8xNV8xXzkzOTk4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *